চিটাগাং চেম্বার-এর সাথে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার প্রতিনিধি দলের মতবিনিময়
অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পররাষ্ট্র, কৃষি, বাণিজ্য ও বার্বুডা বিষয়ক মন্ত্রী এভারলি পাল চেট গ্রিন-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সাথে মতবিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ এর সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, আখতার উদ্দিন মাহমুদ, ওমর মুক্তাদির, প্রতিনিধিদলের বিনিয়োগ ইউনিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চারমাইন ডোনোভান, অভিবাসীর চেয়ারম্যান-পরিচালক ই. ক্যাসরয় জেমস, জুলিয়েট জেনিল মার্সেল ও পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময় সভায় অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পররাষ্ট্র, কৃষি, বাণিজ্য ও বার্বুডা বিষয়ক মন্ত্রী এভারলি পাল চেট গ্রিন বলেন,বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমরা খুব শিগগিরই মিশন চালু করবো। অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পর্যটন ও মৎস্য সেক্টর অনেক সমৃদ্ধশালী। এছাড়াও এখানে উৎপাদন হয় রিফাইন্ড পেট্রোলিয়াম, সয়াবিন ও সুগারক্যানসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য।
তিনি বলেন, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার রয়েছে শক্তিশালী পাসপোর্ট। পৃথিবীর ১৬০টি দেশে সহজে যেতে পারে পাসপোর্টধারীরা। এছাড়াও এখানে রয়েছে ঝামেলামুক্ত বিনিয়োগ সুবিধা। বিনিয়োগকারীরা সহজে প্রবেশ করতে পারে আমেরিকাসহ যুক্তরাজ্য এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে। তাই বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এসব সুবিধা বিবেচনা নিয়ে বিনিয়োগের আহবান জানান তিনি। একই সাথে তিনি উভয়দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন ও হসপিটালিটির বিকাশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে চিটাগাং চেম্বার নেতৃবৃন্দকে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা সফরে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চল বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং এবং টেক্সটাইল খাতে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪তম খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বের ২২টি কৃষি পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে। তারপরও বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ল্যাটিন অঞ্চলগুলো থেকে সয়াবিন ও 'র' সুগারসহ মসলা আমদানি করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা সরকার কর্তৃক বিনিয়োগের প্রদত্ত বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটন খাতে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), অঞ্জন শেখর দাশ, বেনাজির চৌধুরী নিশান ও মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
