জনবল সংকটে খুমেক, ভোগান্তিতে রোগীরা
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের জটলা পেরিয়ে দোতলায় উঠতেই দেখা যায়, রোগীদের কেউবা মাদুর পেতে, আবার কেউবা বিছানা পেতে শুয়ে আছেন। এভাবে হাসপাতালের প্রতিটা বারান্দাজুড়ে রোগীদের সারি সারি লাইন। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরী বিভাগ সবখানেই রোগী আর রোগী।
মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনিসহ সব বিভাগেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি রোগী। আর এই রোগীর চাপ সামলাতে অসহায় অবস্থা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিট রয়েছে মাত্র ৫০০টি। কিন্তু কোনো কোনো দিন এই রোগীর সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়ে যায়। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চারগুণ বেশি। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডের চিত্রও একই রকম।
প্রতিদিন এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন মাত্র ২৩৬ জন চিকিৎসক। তার ওপর অনেক চিকিৎসকই মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। একদিকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান, অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় তাদের। সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের অবস্থাও নাজেহাল।
ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন খুমেকে। গত এক সপ্তাহ ধরে বারান্দায় মাদুর পেতে থাকলেও এখনও সিট মেলেনি। তাই কষ্ট করে বারান্দাতে আছি।’
সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ৩০১টি। সেখানে কর্মরত আছেন ২৩৬ জন। শূন্য পদ রয়েছে ৬৫টি। ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে নার্সদেরও সংকট রয়েছে। ৪৮৫ জন নার্স পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩৯১ জন। তার মধ্যে ৮৫ জন প্রেষণে ও একজন লিয়নে রয়েছেন। এছাড়া একজন সুপারিনটেন্ডেন্ট, তিন জন সুপারভাইজার, দুইজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন স্টাফ নার্সসহ শূন্য পদ রয়েছে আটটি। কাগজে কলমে ৩৯১ জন নার্স থাকলেও ২৯৭ জন দিয়ে রোগীদের নাসিং সেবা দেয়া হয়ে থাকে।
দীর্ঘদিনের ব্যবহারে মেডিক্যাল মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫১ প্রকার জিনিসপত্র প্রায় অচল হয়ে গেছে। এসবের মধ্যে আছে পাঁচটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, দু’টি এক্সরে মেশিন, ২৫টি নেবুলাইজান মেশিন, ৬০টি অক্সিজেনমিটার, তিনটি অক্সিজেন ফ্লো মিটার, দুইটি মাইক্রোসকোপ, পাঁচটি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, পাঁচটি এনেসথেসিয়া মেশিন, তিনটি ল্যাপরেস্কোপি মেশিন, ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ১২টি কার্ডিয়াক মনিটর, ছয়টি আইসিইউ বেড, আটটি ওটি টেবিল, দুইটি ওটি লাইট, ১৮টি পালস অক্সিমিটার, ছয়টি ডায়থারমো মেশিন, তিনটি অটোক্লেভ মেশিন, ১১টি সাকার মেশিন, চারটি ইসিজি মেশিন, দু’টি জেনারেটর, ২২টি এসি ও দু’টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর।
খুলনা মেডিকেলের সহকারী পরিচালক নিয়াজ মোস্তাফি দ্য নিউজকে বলেন ‘অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে রোগী তিন থেকে চারগুণ বেশি। ১৭০০ থেকে ১৯০০ রোগীর সেবা দেওয়া লাগে। জনবল সংকটের কারণে সেবার গুণগত মান কোনোভাবে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ডাক্তারা হিমশিম খাচ্ছে।’
দ্য নিউজ/এমএম
