নববর্ষ উপলক্ষে কাশিমপুর কারাগারে বন্দিদের বিশেষ খাবার পরিবেশন
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কাশিমপুর কারাগারে বন্দিদের বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেছেন বন্দিরা। গানে কারাবন্দিরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন, কারাচত্বওর মুখরিত হয়। বাজনার সঙ্গে তারা সুরের মুর্ছনায় মনের অজান্তে নেচেও ওঠেন।
মহিলা কারগারের ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের মধ্যে বিশেষ খাবার পরিবেশন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। নিয়ম-নীতি মেনে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ নববর্ষে বন্দিদের কিছুটা হলেও আনন্দ দিতেই এ আয়োজন করা হয় বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, তার কারাগারে প্রায় ২হাজার ৩শ’ বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১হাজার ৩৬ জন ফাঁসির, তিন শতাধিক যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। নববর্ষ উপলক্ষে রোববার এ কারাগারের ভেতরে বন্দিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়। এদিন বন্দিদের খাবারের তালিকায় ছিল সকালে রুই-পান্ত,আলু ও বেগুন ভর্তা, কাঁচা মরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, দুপুরে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, পোলাও, সালাদ এবং রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ও মুড়িঘণ্ট।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ জানান, তার কারাগারে এক হাজার ৩১৩ জন বন্দি রয়েছেন। এছাড়া এখানে বন্দিরে মধ্যে শতাধিক ফাঁসি, অর্ধশতাধিক যাবজ্জীবনের আসামি রয়েছেন। এ কারাগারেও বন্দিদের দেয়া হয়েছে বিশেষ খাবার এবং আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠনের। ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান গেয়েছেন বন্দিরা।
কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর সুপার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তার কারাগারে মোট বন্দি আড়াই হাজারের ওপরে। তাদের মধ্যে শতাধিক ফাঁসি ও পাঁচ শতাধিক যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। এখানেও সকালে রুই-পান্তা,আলু ভর্তা, কাঁচা মরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, দুপুরে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, পোলাও, সালাদ এবং রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ও মুড়িঘণ্ট।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের (ভারপ্রাপ্ত) জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, এখানে ৪৮৪ মতো বন্দি রয়েছেন। এছাড়া এ কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে বন্দিরে সঙ্গে আসা ৫২ জন শিশু রয়েছে। এখানে ফাঁসির আসামি রয়েছেন ৩৩ ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন ৪০ জন। এদিন এ কারাগারে নারীবন্দি ও ডে-কেয়ারের শিশুদের অংশগ্রহণে নাচ ও গান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহিলা কারাগারে খাবারের তালিকায় ছিল সকালে রুই-পান্তা,আলু ভর্তা, কাঁচা মরিচ-শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ, দুপুরে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, পোলাও, সালাদ, পান-সুপারি এবং রাতে সাদা ভাত, ডিম ভুনা ও আলুর দম।
