লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটালো ছাত্রলীগ নেতারা
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিএফ চালের স্লিপের ভাগ না পেয়ে এরশাদুল হক নামে এক ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছেন স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। আহত এরশাদুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ইউপি সদস্যবৃন্দ ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে আসলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নপরিষদ চত্বরে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ চলছিল। বিকালের দিকে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ দলবল নিয়ে সেখানে এসে এরশাদুল হককে মারধর করে। এ সময় তাদের হাতে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে ঘুষি দিলে এরশাদুলের এক চোখ মারাত্মক জখম হয়। হামলাকারীরা এরশাদুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত ইউপি সদস্য এরশাদুল হক বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে দুস্থ ও হতদরিদ্রদের নামে আমি মাত্র ১২টি স্লিপ পাই। ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন ও সম্পাদক আবুল কালাম আমার কাছে ওই স্লিপের ভাগ দাবি করে। গরিব মানুষদের জন্য বরাদ্দ স্লিপ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে প্রকাশ্যে মারধর করে। আমি সঠিক বিচার চাই। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’
অভিযুক্ত সুমন জানায়, আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে ইউপি সদস্য এরশাদুল হকের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে হাতাহাতি হয়েছে। সে দাবি করে যে, ইউপি সদস্য এরশাদুলই আগে আঘাত করেছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের সাথে কথা বলি। এরপর তারা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। আমরা ঘটনাটির মূল কারণ খতিয়ে দেখছি।’
