গরমে অস্থির রাজশাহীর মানুষ
গরমে পুড়ছে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। গত কয়েকদিনের খরতাপে প্রাণিকুলের কাহিল অবস্থা। দিনের শুরুকেই তীব্র রোদে তেতে উঠছে মাঠি। প্রতিদিনই যেন বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দিনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মওসুমের এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিন সকালে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাধারণত দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। এছাড়া ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠলেই তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ বছর মৌসুমের শুরুতেই মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। ফলে হাঁসফাঁস অবস্থা প্রাণিকূল।
এদিকে তীব্র রোদ ও গরমে রমজানের রোজাদারদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে দুপুরের পর প্রধান প্রধান সড়ক ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দুপুরে ঈদ মার্কেটেও প্রভাব পড়ছে খরার। সন্ধ্যার পর মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও সারাদিনে এই সংখ্যা থাকছে কম।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যক্ষেক শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মওসুমে এ পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীতে সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তখন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রিতে নেমে এসেছিল। এরপর থেকে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গেল তিনদিন থেকে রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে। যা কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া আরও অন্তত ৩-৪ দিন তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা নেই।
