বগুড়ায় গৃহবধূর সম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গড়ফতেপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর মেয়ে শারমিন আক্তার তার নেশাগ্রস্ত স্বামীর কবল থেকে বাঁচতে এবং সম্পদ রক্ষাসহ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২০১৮ সালে একই উপজেলার চামুরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রফিকের ছেলে এবিএম ওমর ফারুকের সাথে ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে তার বিবাহ হয়। বিয়ের পরপরই তার স্বামী তাকে ৬ শতাংশ জমি ও তার ওপর নির্মিত ভবনসহ হেবার ঘোষণা মূলে রেজিঃ দলিল করে দেয়। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মাসে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ছেলের বয়স ৯ মাস চলাকালে তার স্বামী তাকে টাকা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন কাজের কথা বলে ৯ লাখ টাকা কর্জ হিসেবে নেয়।
পরবর্তীতে আরও টাকা দিতে না চাইলে সে তাকে শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০২০ সালের জুলাই মাসে শিশু সন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে সে স্ত্রী ও সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং কোন প্রকার ভরণ-পোষণ দেয়া থেকে বিরত আছে।
এরমধ্যে দেনমোহরের সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা বকেয়া রাখে তার স্বামী। দেনমোহরের টাকা না দেয়ার জন্য সে বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে থাকে। এমনকি তার নামে রেজিঃ করে দেয়া জমি ফেরৎ নিতে জমির দলিলটি জাল সনাক্ত করতে সে বিভিন্ন প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলাও দায়ের করে। ওই মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
এদিকে, ভরণপোষণ ও খোরপোষ না দেওয়ায় স্বামী ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ভরণপোষন ও মোহরনার টাকা দাবি করে গত ২০২২ সালের ১লা জুন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন শারমিন আক্তার। যা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
বিয়ের পর তারা জানতে পারের ইতিপূর্বে ওমর ফারুক আরও ২টি বিয়ে করে তাদেরকে তালাক দেয়। এসব তথ্য গোপন করেই সে তাকে বিয়ে করে।
বর্তমানে তার স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং নেশার টাকা যোগান দিতেই সে প্রতারণা করে তাকে দেয়া জমি কৌশলে ফেরৎ নেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি জোরপূর্বক বিক্রি করার জন্য দালাল ও কতিপয় ভূমিদস্যুদের যোগসাজসে ভূয়া দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি করার চেষ্টা করছে। এছাড়া সে বিভিন্ন অচেনা লোক দ্বারা আমাকে তার সন্তান ও পরিবারের লোকজনকে খুন-জখম করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে ২৮ মার্চ সোনাতলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন শারমিন।
তিনি সন্তানসহ তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং জমিসহ ভবন রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
