চট্টগ্রাম নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা
চট্টগ্রাম নগরীর অলিগলি দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। অবৈধ এসব যানের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ। এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশও দেন ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট থানাকে। কিন্তু তবুও নগরজুড়ে চলছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা।
ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশায় কম পরিশ্রমে বেশি আয় হয়। পায়ে চালিত রিকশা যতটুকু দূরত্বে ৪০ টাকা হাঁকে, সেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা ২০-২৫ টাকায় রাজি হয়ে যায় এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা আরেকবার যাত্রী নিতে পারেন। তবে দ্রুত গন্তব্য পৌঁছানো, অধিক যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা রয়েছে বলেও ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা স্বীকার করেন।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাটারির রিকশা সারাদিন চালানো লাগে না। আধবেলা চালালেই ১৫-১৬টা ট্রিপে ৫০০ টাকার মতো থাকে।’
অবৈধ হওয়ার পরও ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান কেন— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন গ্যারেজগুলাতে ব্যাটারি রিকশা বেশি। আর এই রিকশা চালাতেও আরাম। অবৈধের বিষয়টা গ্যারেজ মালিক জানে।’
কয়েকদিন ধরে ঘুরে দেখা যায়, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল দেখতেই পুলিশ আটক করে। তারপরও বাহনগুলোর চলাচল অব্যাহত রয়েছে। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ, খুলশী, কোতোয়ালী, পাহাড়তলী, হালিশহর, আকবরশাহ থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। অনেক পথচারী আহত হয়েছে। ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনা।
ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক-চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালকদের পরিশ্রম কম এবং আয় বেশি হওয়ায় তারা এ ধরনের রিকশা চালাতে আগ্রহী। মালিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিনিয়োগের তুলনায় এতে আয় বেশি। সাধারণ একটি রিকশায় মালিকের বিনিয়োগ ১৫-২০ হাজার টাকা। আর তাতে দৈনিক আয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত একটি রিকশায় বিনিয়োগ ৩৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ থেকে দৈনিক আয় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।
তবে মালিকরা লাভবান হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরাই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের চলাচলের প্রধান বাহন রিকশায় চড়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিটিতে চালানো নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে চালাচ্ছি। অনেক সময় পুলিশ জরিমানা করে রেকার বিল করে। তারপরও এসব মিটিয়েই চালাতে হয়।
নগরীর সাগরিকা মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট সুখেন চন্দ্র দে জানান, আমাদের বিভাগের প্রধান সড়কে এই রিকশা দেখতে পাবেন না। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টা রিকশা ধরে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করার সময় আমাদের ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। আমরা ঝুঁকি নিয়ে এসব অটোরিকশা আটক করি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদ আহাম্মদ বলেন, অবৈধ ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের নির্দেশনা হলো রাস্তায় এই গাড়ি দেখামাত্রই ধরা, জরিমানা করা। তবে এখানে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। জব্দ গাড়িগুলো রাখার মতো আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা (ডাম্পিং প্লেস) নেই। ফলে গাড়ি ধরে জরিমানা করে একদিন পর ছেড়ে দেয়া হয়। যেদিন ধরে সেদিনও ছেড়ে দিতে হচ্ছে। যে কারণে মনে হচ্ছে চালকরা রাস্তায় এই অবৈধ গাড়ি নামানোর সাহস পাচ্ছে।
