হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে, ধরছে না পুলিশ
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার আড্ডায় গাড়ি চালক জয়নাল হত্যা মামলার আসামিরা ‘প্রকাশ্য থাকলেও’ তাদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নিহত জয়নালের স্ত্রী আয়েশা খাতুন ও ভাই মো. শাহিন এ অভিযোগ করেন।
আয়েশা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তালেব হোসেন বাবর ও তরিকুল মাস্টারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মারধর করে। পরে গুরুতর আহত জয়নালকে প্রথমে রহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।
নিহত জয়নালের ভাই শাহিন অভিযোগ করেন, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এলাকাতে পুলিশ আসলেও আসামিদের গ্রেপ্তার না করে তারা চলে যাচ্ছে। এখন সন্ত্রাসীরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রাণভয়ে আমরা এলাকায় থাকতে পারছি না। পাশ্ববর্তী রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মোত্তালেব হোসেন বাবর একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর লোক হওয়ায় পুলিশ আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো সন্ত্রাসীদের পক্ষে কাজ করছে। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২৫ মার্চ গোমস্তাপুর উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষ সাবির উদ্দীনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় তরিকুল মাস্টারের লোকজন। এসময় দোকানপাট ভেঙে মালামাল লুটে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে লুটে করে নেয় ১১টি গরু ও চারটি ছাগল। এ ঘটনায় আহত হন ৯ জন। আহতদের মধ্যে জয়নাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী রসলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোত্তালিব হোসেন বাবরের ইন্ধনে হয়েছে হামলা মারধোর আর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর নিহত জয়নালের ভাই শাহিন বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোমস্তাপুর থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহম্মেদ বলেন, জয়নাল হত্যার ঘটনায় তার ভাই শাহিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এজাহার নামীয় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ ঘটনায় পর থেকে পুরো এলাকা পুরুষশূন্য। একজনও এলাকায় নেই। ঘটনাটি নওগাঁর নিয়ামতপুর ও গোমস্তাপুর থানার সীমানায়। আমরা দুই থানা মিলিয়ে যৌথভাবে আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
