৫০ কোটি টাকার উলু ফুল বাণিজ্য
খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় এবার ৫০ কোটি টাকার উলু ফুলের বাণিজ্য হবে। এখন পাহাড়ে পাহাড়ে উলু ফুল সংগ্রহ করার মৌসুম চলছে। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাহাড়িরা নিজেদের বাগান ছাড়াও দুর্গম এলাকায় গিয়ে উলু ফুল সংগ্রহ করছেন। ১৮-২০টি করে উলু ফুল দিয়ে একটি আঁটি তৈরী করে স্থানীয় বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। আবার অনেক ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে ঘুরে আঁটি সংগ্রহ করেন। বর্তমানে অসংখ্য পরিবার উলু ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
শহরের কলেজ পাড়া ও খবংপড়িয়া সড়কের উলু ফুল শুকানোর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বোরো মৌসুমের ধান চাষ করা হয় না, এমন ফসলি জমিতে এক সাথে চারটি খোলায় কয়েক শ’ শ্রমিক উলু ফুল রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত। কেউ শুকনা ফুল বেঁধে রাখছেন। আবার কেউ কেউ এ পণ্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পাঠাতে ট্রাকে ভর্তি করছেন।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে উলু ফুল প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। ভালো লাভ হয় বলে গত দুই-তিন বছর ধরে স্থানীয়রা এ পণ্য বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছে। কোনো পানি দিতে হয় না, বিনা পরিচর্যায় সহজেই চাষ করা যায়। শুধু লাগিয়ে দিলেই হয়ে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ির স্থানীয় উলু ফুল ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বাজারে দাম একটু কম। ইদানিং দেখা যাচ্ছে যে ভারত, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে কিছু উলু ফুল দেশে আসছে। বিশেষ করে ভারতের কিছু চোরাই পথে এই পণ্যটি আসে। এ কারণে আমাদের বাজার মূল্য একটু কম। এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এলাকারই উলু ফুল ব্যবসায়ী মো. মানিক বলেন, এই বছর মালের দাম বেশি, কিন্তু ফুল কম। সদর ছাড়া মহালছড়ি-দীঘিনালাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ পণ্য সংগ্রহ করি। আমার মাঠে পনের থেকে ২০ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে। এই মাঠ হতে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক মাল যায়। এখানে কোটি টাকার বেশি ইনভেস্ট করতে হয়।
ঢাকা থেকে আসা উলু ফুল ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ও মো. শহীদ বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা ছাড়া রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলা থেকে শুকনা উলু ফুল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে কিনে নিয়ে যান তারা। এক মৌসুমে ১৪-১৫ ট্রাক পণ্য ঢাকা, রাজশাহী, সিলেটসহ সারাদেশে বিক্রি করা হয়।
খাগড়াছড়ি উলু ফুল সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা ছাড়া রাঙমাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু উপজেলা মিলে এক মৌসুমে প্রায় আট শ’ ট্রাক উলুফুল যায় সারাদেশে। এতে খাগড়াছড়িতে এক মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার উলু ফুলের বাণিজ্য হয়। খাগড়াছড়িতে স্থানীয় পঞ্চাশ জন ব্যবসায়ী আছে। তাদের অধীনে প্রায় ২০ হাজার জন শ্রমিক কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছে।
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ফুলের ঝাড়ু (উলু ফুল) এক সময় অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমান চাহিদার কারণে এটা খুবই মূল্যবান পণ্য। এখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী কম পরিশ্রমে, কম বিনিয়োগে এটা থেকে লাভবান হচ্ছে। এ খাত থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ি বন বিভাগের মতে, এই উলুফুল থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমান চার লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।
তিনি বলেন, আমরা যদি এ পণ্য দেশের বাইরে রফতানি করতে পারি, তাহলে আমরা আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। এর ফলে স্থানীয় জনগণ আরও বেশি লাভবান হবে।
