পাটগ্রামে যে কারণে অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত থাকে ঠান্ডার প্রকোপ। আর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় গরম। আবহাওয়ার এই অস্থিতিশীলতার কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ভুগছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড-এর স্বল্পতার কারণে বারান্দা ও মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে শিশুদের, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ার কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ শিশুদেরকে ঠান্ডা থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পাটগ্রামে ভোর থেকে সকাল অবধি ঠান্ডার প্রকোপ থাকে আর সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় গরম। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই আবার ঠান্ডা বাড়তে শুরু করে। গত কয়েকদিন ধরে চলছে এমন অস্থিতিশীল আবহাওয়া। এতে পাটগ্রাম পৌরসভা ও অন্যান্য ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।
সূত্র মতে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হাতে গোনা কয়েকটি বেড রয়েছে, কিন্তু ভর্তি রয়েছে রোগাক্রান্ত শতাধিক শিশু। ফলে অনেক শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে শুইয়ে। যার ফলে শিশুদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা।
নাম বলতে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘তিনদিন হলো আমার বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। চিকিৎসা নিতে এসে সবধরনের ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। তবে, ডাক্তাররা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন’।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা. জহির উদ্দীন মো. বাবর বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ার কারণে সর্দি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিদিন আমাদের হাসপাতালে ১০-১৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরাও ভর্তি হচ্ছে। সর্দি-কাশি এবং জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও অনেক।’
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, হাসপাতালগুলোতে হঠাৎ করে শিশু রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা সেবা দানে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে তারা জানান। তারা আরও জানান, সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুদেরকে ঠান্ডা থেকে দূরে রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। তারা অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।
