নারায়ণগঞ্জে অর্ধশতাধিক নারীর টাকা নিয়ে লাপাত্তা মহিলা লীগ নেত্রী
ভাতার কার্ড দেয়ার আশ্বাস
রূপগঞ্জ সমাজসবো কার্যালয় থেকে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অর্ধশতাধিক দুস্থ নারীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মহিলা লীগ নেত্রী। পরে তিনি ওই টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েন যান। অভিযুক্ত সাথী রূপগঞ্জ ইউনয়িন আওয়ামী মহিলা লীগেরর নেত্রী। এছাড়া লাপাত্তা হয়েছেন তার সহযোগীরাও। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশুরি এলাকার দুস্থ নারী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আমিসহ কয়েকজন রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ও ৭নং ওয়ার্ড থেকে ৩১ জন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারি অনুদান ও সহায়তা পাওয়ার জন্য উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ফেরদৌসী আলম নীলার পূর্বাচলের বাসায় যাই। কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যানের দেখা না পেয়ে চলে আসার সময় মহিলা লীগ নেত্রী সাথী আক্তারের সাথে দেখা হয়। তিনি জানান, বিধবা ভাতা পেতে ২ হাজার, ক্যান্সার আক্রান্তের জন্য ১০ হাজার, গর্ভবতী ও বয়স্ক ভাতা পেতে জনপ্রতি ৩ হাজার করে দিলে ১ মাস পর থেকে তারা ভাতা পাবে। পরে আমরা তার কথায় রাজি হয়ে ২ বছর পূর্বে তার হাতে দাবিকৃত টাকা দেই। কিন্তু গত ২ বছরেও কেউ কোনও ভাতা পাননি। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই। আবার নীলা চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে বাধা দেন সাথী। আর বারবারই ভাতা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমাদের ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
সর্বশেষ, গত ২ মাস পূর্বে বাধ্য হয়ে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ জানাই। কিন্তু আমাদের টাকা আর ফেরত পাইনি। অভিযুক্ত সাথীও তার বাসায় থাকে না বলে জানিয়েছে তার পরিবারের লোকজন।
অভিযোগ করেও টাকা ফেরত না পাওয়া দুস্থ নারীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভুক্তভোগী পিতলগঞ্জের শাহানাজের ২ হাজার, আকাশী, আমেনা, রিমাদের কাছ থেকে ১ হাজার করে, ফাতেমা, ফিরোজা, হাসনারাদের কাছ থেকে ৫ হাজার করে ভাতা পাইয়ে দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে ৬৫ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় সাথী ও তার সহযোগীরা।
এসব বিষয়ে সাথীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ব্যবহৃত নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়৷
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম নীলা বলেন, সাথী বা কোনও নেত্রী আমার নাম ভাঙিয়ে টাকা আদায় করেছে কী না এমন কিছু জানা নেই। তবে যেদিন জেনেছি সেদিনই প্রতিবাদ করেছি। সাথীকে সতর্ক করেছি। টাকা ফেরতের কথাও বলেছিলাম। এখনো দেয়নি, কেন তা জানি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়ে সাথী, রাসেলসহ একটি চক্রকে পরিষদে নোটিশ করেছি। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা ফেরত হিসেবে আদায় করে দিয়েছি। কিছু মনে হয় বাকি আছে। গরীব অসহায়দের এভাবে ঠকানো অন্যায়। সবার টাকা ফেরত দেয়ার জন্য যা যা করা লাগে আইন মতে সব করবো।
এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইশরত জাহান ভুঁইয়া বলেন, বিধিমতে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিতে দালাল চক্রের কোন কাজ নেই এ দপ্তরে। কেউ সত্যিকারের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কিনা তার প্রাথমিক তালিকা করবেন ইউপি সদস্য। তারপর ওই তালিকা পাঠাবে ইউপি চেয়ারম্যান। অতঃপর আমরা ইউএনও মহোদয়ের যাচাইপূর্বক তা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠাই। তা বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে একজন ব্যক্তি এ ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। সুতরাং কোন দালালের মাধ্যমে এ সুবিধা আমরা দেই না। সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত নারী সাথী বা কারো সাথে অফিসের যোগাযোগ নেই।
