ঠাকুরগাঁওয়ে স’মিলের শব্দে অতিষ্ঠ মানুষ
ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪৯ স’মিল (করাতকল) শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, হুমকিতে পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য। স’মিল স্থাপনে বন বিভাগ থেকে নিতে লাগে লাইসেন্স আর পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র। মানতে হয় নির্দিষ্ট কিছু বিধিমালা। এসব করাতকলের বেশিরভাগ মালিকদের নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র।
ঠাকুরগাঁও রেঞ্জ বনবিভাগের তথ্য মতে, ২০২০ সালে জেলায় ২০৩টি করাতকল গড়ে ওঠলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ২৪৯টি। এসব গোনা কয়েকটি করাতকলের অনুমোদন থাকলেও হাতে বেশিরভাগের নেই পরিবেশের ছাড়পত্র।
করাতকল বিধিমালা-২০১২ তে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে এমন স্থান থেকে কমপক্ষে ২০০ মিটার এবং সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না কোথাও।
নিয়ম-নীতি না মেনে যত্রতত্র গড়ে ওঠছে করাতকল। গড়ে ওঠা এসব করাতকলে হরহামেশা ফাড়াই করা হচ্ছে কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের। আর জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কোনেভাবেই তাদের ঠেকানো যাচ্ছে না।
এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা রাস্তার পাশে এবং বনায়নে রোপণকৃত গাছ অবৈধভাবে কর্তন করে গড়ে ওঠা করাতকলে সহজেই বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। আর এসব গাছ মুহূর্তেই করাতকলে চেরাই করে কাঠ হিসেবে বিক্রি করছেন মালিকরা।
ঠাকুরগাঁও সদরের বরুনাগাঁও, জগন্নাথপুর, গড়েয়া, সালন্দরসহ প্রতিটি করাতকলে প্রতিদিন শতশত গাছ চেরাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বৈধ কিংবা অবৈধ গাছ যাচাই না করে ক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও, অস্বীকার করছেন মালিকরা। আর স্থানীয়দের অভিযোগ যোগসাজশেই এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সুযোগ সন্ধানীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ‘মাসোহারা’ দিয়ে এসব করাতকল পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে যত্রতত্র অবৈধ করাতকল স্থাপনের বিষয়টি স্বীকার করলেও মাসোহারা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়া শিগগির যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন তারা।
সুখানপুখুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, তদারকি করার পরেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধভাবে গাছ কর্তনকারীদের। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ঠাকুরগাঁও সামাজিক বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ জানান, বনবিভাগের দায়িত্ব হনন করে নেয়ায় সরকারি গাছ চুরি কিংবা কর্তন হলেও ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ফলে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন জানান, অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তনকারীদের মামলা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে করাতকল মালিকরা এমন ব্যবসা যেন চালাতে না পারে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়ার কথা জানান তিনি।
