বৃষ্টিতে তরমুজ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
প্রতি বছর রমজান আসলেই কদর বাড়ে রসালো ফল তরমুজের। রোজার মাসকে কেন্দ্র করে আকাশছোঁয়া দাম হাকান ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করেও ফল হয়নি, উল্টো সিন্ডিকেট করে ভুগিয়েছেন ভোক্তাদের।
রংপুরে সেই তরমুজের দামে ভাটা পড়ে এখন ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে তরমুজের বাজার। বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের কথা জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিনে রাখা তরমুজ ১২-১৫ দিনের আগে বিক্রি করতে না পারলে পঁচে যাবে। নষ্ট হয়ে যাওয়া তরমুজও ফেলে দিতে হচ্ছে ডাস্টবিনে।
রোববার এমন দৃশ্য দেখা গেছে, নগরীর সিটি বাজারের ফলের আড়ত ও কাচারি বাজার সংলগ্ন তরমুজের দোকানগুলোতে। মেঘলা আবহাওয়ায় তেমন বিক্রি না হওয়ায় তরমুজ না নিয়ে দুশ্চিন্তার যেন অন্ত নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তরমুজ এনে স্টক করেছেন তারা। কিন্ত ৭০-৮০ টাকা কেজির তরমুজ এখন ৫০ টাকা কেজি দরে দাম হাকালেও ক্রেতারা কিনছেন না। তাছাড়া বৃষ্টির পানি পড়ে পঁচন ধরছে তরমুজের এতে করে বাড়তি লোকসানের মুখে তারা।
কাচারিবাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, রোজার শুরুতে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করেছি। সেই তরমুজ-ই এখন অর্ধেক দামে ক্রেতারা কিনছেন না। কম বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’গরম বেশি হলে এই ফলের চাহিদা বাড়ে কিন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা তোলাই মুশকিল।’
আরেক ব্যবসায়ী কামালুদ্দীন বলেন, আগে প্রতিদিন ৮০-৯০টা বিক্রি করতে পারলেও এখন সারাদিনে ৩০টা তরমুজ বিক্রি করা যাচ্ছে না। উপরন্ত বৃষ্টির পানির জন্য কালার খারাপ হওয়ায় ক্রেতারা কিনছেন না। আবহাওয়া এমন থাকলে লস হয়ে যাবে।
সিটি বাজার এলাকার তরমুজের পাইকার সুমন জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করতে না পারায় আমাদের ব্যবসাও খারাপ। আগের দামে কিনলেও এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মহিউদ্দিন নামের একজন ক্রেতা বলেন, বেশি দাম থাকতে তো কিনতে পারিনি। তাই দাম কমে যাওয়ায় পরিবারের জন্য কিনতে আসছি।
জাহাজ কোম্পানী মোড় এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের গলা কেটেছে প্রকৃতি এখন ব্যবসায়ীদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের শুরুতে অপরিপক্ক তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকা দরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বারবার সতর্ক করা হলেও বেশি দামে কেনার অজুহাতে ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে
বিক্রি করছিল ব্যবসায়ীরা। এখন সেই তরমুজই তাদের গলার কাঁটা।
