ঝালকাঠিতে ১৭ ও চুয়াডাঙ্গায় ২৮ তরুণ-তরুণী
এবার ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলো
‘সেবার ব্রতে চাকরি’ এই স্লোগানের শতভাগ মেধা যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে ঝালকাঠি পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশের চাকরি পেয়েছেন ১৭ তরুণ-তরুণী। এই চাকরি পেতে অনলাইন আবেদন খরচ বাবদ জনপ্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা।
শনিবার (২৩ মার্চ) রাতে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনস্ ড্রিল শেডে নতুন চাকরি পাওয়ায় এই তরুণ-তরুণীদের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল (পিপিএম)। এতে ১৪ জন ছেলে এবং ৩ জন মেয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ ১৭ জন ও অপেক্ষমান তালিকার ৬ জন প্রার্থী ও তাদের পরিবারবর্গকে ফুল দিয়ে বরণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল।
কোনো প্রকার হয়রানি, সুপারিশ এবং ঘুষ ছাড়া পুলিশের গর্বিত সদস্য হতে পেরে খুশিতে আত্মহারা হত দারিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারে এসব তরুণ-তরুণী।

জানা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় জানুয়ারি ২০২৪ এর ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়। এ সময় এক আনন্দঘন মুহূর্ত দেখা গেছে পুলিশ লাইনসে্। নিজ যোগ্যতায় ও মেধায় চাকরির ফলাফল পাওয়া মাত্রই ১৭ জন তরুণ-তরুণী আনন্দে বিমোহিত হয়। পুলিশের ড্রিল শেড মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় আনন্দ ও কান্নার মিলনমেলায়। অনেকের নাম ঘোষণার পরপরই দুই নয়ন অশ্রুতে ভিজে যায়। অনেকেই চাকরি পেয়ে আনন্দ উল্লাস করেন তাদের মধ্যে অনেকে।
এ বিষয়ে কথা হয় মো. আরিফ হাওলাদারের সঙ্গে। চাকরি হওয়ার কথা শুনে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার চাকরির আবেদন করে আজ নিজের মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি পাওয়ায় আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ পুলিশকে। আমি যেন এই পুলিশের চাকরির মাধ্যমে মানুষের সেবা করতে পারি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘নিজের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে আজ চাকরি পেল ১৭ জন তরুণ-তরুণী। যারা আজ নিয়োগ পেয়েছেন তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতায় ও মেধায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এতে তাদের কোনো যোগাযোগ, লবিং ও ঘুষ বিনিময় করতে হয়নি। তাদের আবেদন করতে যে খরচ হয়েছে ১২০ টাকা, সেটিই তাদের খরচ। আশা করছি, আজকে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন সদস্য হলেন, তারা সবাই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে।’
এসময় অভিভাবকরা আবেগপ্রবণ হয়ে তাৎক্ষণিক অনুভূতি ব্যক্ত করেন যে, তারা কৃষক, দিনমজুর, অটোচালক বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। যদি বাংলাদেশ পুলিশ স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিতেন তাহলে আজ তাদের সন্তানরা বাংলাদেশ পুলিশের মত গর্বিত বাহিনীতে চাকরি করার সুযোগ পেত না।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল ১৭ জনের শূন্য পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং শেষে জেলার চারটি উপজেলার ৭৬৬ জন প্রার্থী শারীরিক মাপ, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ পরীক্ষা শেষে ১৮৯ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাতে ৫২ জন উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে চূড়ান্তভাবে ১৭ জনকে (১৪ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে) মনোনীত করে ঝালকাঠি জেলা টিআরসি-২০২৪ নিয়োগ বোর্ড ৷ এতে অপেক্ষমাণ রাখা হয় আরও ৫ জন ছেলে ও ১ জন মেয়েকে। ১৭ জনের মধ্যে সাধারণ কোটা ৯ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪ জন, পোষ্য কোটায় একজন, নারী সাধারণ কোটায় ৩ জন।
এদিকে, শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশের চাকরি পেলেন ২৮ তরুণ-তরুণী। প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর তাঁদেরকে পুলিশ সদস্য হিসেবে বরণ করে নিয়েছে জেলা পুলিশের সদস্যরা।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জেও কোন রকম ঘুষ, তদবির ছাড়াই ৪১ জন পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
