ঝিনাইদহে তিনজনের যাবজ্জীবন
১২ বছরেও হদিস মিলেনি কিশোরীর
সন্তানের প্রতীক্ষায় এক যুগ চলে গেলো। কিন্তু সন্তানের হদিস নেই। অবশেষে অতৃপ্ত হৃদয়ে কিছুটা স্বস্তি এলো অপরাধীদের শাস্তির রায়ে। মামলার একযুগ পরে আজ (২০ মার্চ) ঝিনাইদহের মহেশপুরে মানব পাচার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীন কারাদন্ড এবং সেই সাথে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারদন্ড দিয়েছে আদালত।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- রওশনারা বেগম, মোঃ সানোয়ার হোসেন এবং বাপ্পি। বুধবার (২০ মার্চ) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মোঃ মিজানুর রহমান এ রায় প্রদান করেন ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত ২০১১ সালে। আসামিরা নানা প্রলোভনে এজহারকারীর কন্যাকে নিয়ে শহরে কাজে দেয়। কিন্তু এরপর থেকে তার আর হদিস মিলেনি।এজাহারকারীর অভিযোগ, তার মেয়েকে ফুসলিয়ে তাকে যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে দেশে অথবা বিদেশে পাচার করেছে। আসামীরা হলেন এজাহারকারীর স্থানীয় ধর্ম আত্মীয়। সেই সুবাদে তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিলো। আসামিরা এজাহারকারীকে বলেন, তাদের কন্যাকে শহরে নিয়ে গিয়ে ব্রাকে ভালো বেতনে সেলাই মেশিনের কাজ পাইয়ে দিবে। তারপর গত ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারা সরল বিশ্বাসে তাদের কন্যাকে আসামিদের হাতে তুলে দেন। প্রথম তিন মাস মেয়ের সাথে বাবার কথা হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো হদিস মিলেনি।
এক পর্যায়ে এজাহারকারী অভিযুক্তদের কাছে তাদের কন্যাকে ফেরত চাইলে তারা তালবাহানা শুরু করে। এজাহারকারীরা গত ২০১২ সালের ১৩ মে আসামিদের কাছে সাক্ষীসহ উপস্থিত হয়ে কন্যাকে ফেরত চাইলে তারা দিতে অস্বীকার করে। অগত্যা ঐ বছরের ৩১ মে এজাহারকারী ঝিনাইদহ সদর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও দমন আইন ২০১২ এর ৭ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলা প্রমাণিত হওয়ায় পলাতক এ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত এ রায় প্রদান করে ।
