২৩ কোটি টাকার পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
‘কালো স্বর্ণখনি বালিয়াডাঙ্গী
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ফসলি মাঠগুলোর দিকে তাকালে চোখে পড়ে কদম ফুল আকৃতির সবুজ সাদা ফুল আর ফুল। চোখ ও মন জুড়ানো সবুজ ও সাদা ফুল থেকে এক-দু’টো মৌমাছির মধু আহরণ প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে এক অনন্য মনোরম দৃশ্য।
‘কালো সোনা’ নামে পরিচিত পেঁয়াজ বীজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ঠাকুরগাঁওয়ের চাষীরা। গত কয়েক বছরে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও পেঁয়াজ বীজ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে চাষীদের মাঝে। উৎপাদিত এসব বীজের বাজার মূল্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এসব বীজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল গ্রামের দিগন্ত জোড়া মাঠে দেখা মেলে সাদা রংয়ের ফুলে ভরা পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। এসব ক্ষেত থেকে শুধু কৃষকরাই লাভবান হননি, স্থানীয় বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন গ্রামটির কৃষক রফিকুল ইসলাম। এ বছর তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন। তার উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। ফলন ভালো হওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল গ্রামে রফিকুলের মতো আরও অনেক কৃষক শত শত বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করেছেন। মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জেলার অন্যান্য কৃষকরাও। পেঁয়াজ ক্ষেতে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন স্থানীয় যুবকরা। তারা উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারকে সহয়তা করছেন। কারও কারও মিটছে পড়াশোনার খরচ।
সাধারণত নভেম্বর মাস বীজতলায় বা জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপনের সময়। বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে ১৩০ দিন। পরাগায়ন না হলে পেঁয়াজ ফুলে পরিপক্বতা আসে না। আর পরাগায়নের প্রধান মাধ্যম হলো মৌমাছি। কিন্তু পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকেরা খেতে কীটনাশক ছিটান। সেই কীটনাশকে মারা পড়ছে উপকারী পোকা ও মৌমাছি। এ কারণে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেতে দিন দিন মৌমাছির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। তাই ঝাড়ু ও হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের চেষ্টা চলছে।
জেলায় চলতি মৌসুমে ১১২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় এক হেক্টর কম। প্রতি হেক্টরে ৯০০ কেজি বীজ উৎপাদনের আশা রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
