দিনে বিক্রি কোটি টাকার মাছ
চুয়াডাঙ্গায় শত বছরের মাছের বাজার
একসময় চুয়াডাঙ্গা শহর ছিলো চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন কেন্দ্রিক। মাছ আমদানি রপ্তানির একমাত্র মাধ্যম ছিলো রেলযোগাযোগ। সেই থেকেই স্টেশনের কোল ঘেঁষে বেড়ে উঠেছিল এই মাছের বাজার। এখানে প্রতিদিন ৪-৬ মণ মাছ কেনা বেঁচা হয়। যা টাকার মূল্যে প্রায় কোটি টাকা। প্রায় শতাধিক আড়তদারের মাধ্যমে ১২০০-১৫০০ বেশি মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয় এই মাছ বাজারের মাধ্যমে।
সকালের রোদ ওঠার আগেই এখানে শুরু হয় মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যস্ততা। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তাজা মাছ লাফাচ্ছে বিক্রেতার ঢালার ওপরে। বড় সাইজের মাছ দেখতে ও কিনতে বেশি ভিড় দেখা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখরিত বাজারের চারপাশ এলাকা। সড়কের পাশে গাড়ি রেখে মাছ কিনেন অনেকে। বিয়ে, জন্মদিনসহ বড় অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও জেলার অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো পাইকারিতে মাছ সংগ্রহ করেন চুয়াডাঙ্গার এই রেল স্টেশন সংলগ্ন মাছের বাজার থেকে।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, প্রতিদিন প্রায় ৪-৬ মণ মাছ কেনা বেঁচা হয়। টাকার অঙ্কে যা কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহের প্রতিদিনই বসে মাছের বাজার। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় গ্রাস কার্প, রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, মৃগেল, তেলাপিয়া , সিলভার কার্প, ব্রিগহেড ও কমনকার্প মাছ। বিক্রি হওয়া মাছের ৫০ শতাংশই এগুলো। অন্যান্য মাছের মধ্যে ২০ শতাংশ ইলিশ, ১০ শতাংশ দেশি ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আমদানি করা হয়। ইলিশ আসে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। সামুদ্রিক মাছের বেশিরভাগ সংগ্রহ করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। কিছুসংখ্যক মাছ আনা হয় কক্সবাজার থেকে।
প্রাক্তন আড়তদার শহিদুল বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় মাছের ব্যবসার সাথে দীর্ঘদীন ধরে আছি। আমি প্রায় ৪০-৪২ বছর মাছের ব্যবসায় আছি। এ বাজারের মাছের চাহিদা দীর্ঘদিনের। আগে বাজারটি স্টেশনের কাছাকাছি ছিল তারপর একটু এগিয়ে এখন বাজারটি বড় হয়েছে।
আড়তে কাজ করা এক শ্রমিক বলেন, আমি এখানে দীর্ঘদিন আছি। এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাবসায়ীরা মাছ আনে। এখান থেকে আবার খুচরা ও পাইকারী দুইভাবেই বিক্রি হয়। এখানে আনেক ভোরে কাজ শুরু হয়ে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে ।
জেলা মৎস আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ওহিদুল ইসলাম বলেন, মাছের আড়তটি পাকিস্তান পিরিয়ড থেকেই শুরু হয়েছে। রেল স্টেশনের পাশে এই মৎস আড়ত ১০০ বছরের ঐতিহ্য। ইলিশ মাছের সময় প্রতিদিন ৩০০-৫০০ মণ ইলিশ মাছ আমদানি হয়। এছাড়াও সাদা মাছও অর্থাৎ রুই,কাতলা,মৃগেল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প ইত্যাদি মাছেরও বেশ চাহিদা আছে। চাহিদা অনুযায়ী আমরা মাছ সরবরাহ করছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে মাছের দাম আমরা সহনীয় রাখতে চেষ্টা করছি ।
