পলাশে কৃষিজমি মাটি কাটার মহোৎসব, অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে নির্বিচারে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের নামমাত্র মূল্য দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার অনেককে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব মাটি সরাসরি চলে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকায় ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসনও।
কৃষকদের দাবি মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, আইনশৃঙ্খলার মাসিক মিটিংয়ে বলেও লাভ হচ্ছে না। ফলে ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তিন ফসলি জমিও পুকুরে পরিণত হচ্ছে।
অন্যদিকে, অব্যাহত মাটিকাটা ও মাটি অন্যত্র নেওয়ার কারণে ব্যবহৃত ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ধুলাবালি ও কাদামাটিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার মানুষ।
সরজমিনে জয়নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাদিম, তার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম হিরণ ও আরিফ মিয়ার নেতৃত্বে কৃষি জমির মাটি ভেকুমেশিন বসিয়ে ২৫-৩০ ফুট গর্ত করে কেটে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় । কৃষকদের অভিযোগ, এসব মাটি তারা জোরপূর্বক কেটে নিচ্ছে।
বোরহান মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, জয়নগর গ্রামে তার প্রায় ৪ বিঘা তিন ফসলি কৃষিজমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ নেতা নাদিম, তার ভাই শফিকুল ইসলাম হিরণ ও আরিফ মিয়া। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় একাধিকবার বাধা দিলেও কোনো লাভ হয়নি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। ফলে মাটিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
একই অভিযোগ শরিফ মিয়া নামে আরেক কৃষকের। তিনি বলেন, তারা শুধু কৃষিজমির মাটিই কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন নয়। আমার দাদী মসজিদের জন্য যে জমি দান করে গেছেন সেই জমির মাটিও কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা নাদিম মুঠোফোনে বলেন, এখান থেকে কোনো কৃষকের জমির মাটি কাটা হচ্ছে না। যেসব মাটি কাটা হচ্ছে ওইসব জমি তাদের নিজদের বলেও দাবি করেন ছাত্রলীগের এই নেতা।
ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন, তার ইউনিয়নে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটার কারণেই ফসলি জমির পাশাপাশি রাস্তাঘাটগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর কৃষকরাও তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। সরকারের অবকাঠামো রক্ষার্থে ও ডাঙ্গা ইউনিয়নের পরিবেশ রক্ষার্থে এসব বিষয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কথা বলেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কৃষকদের জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার বিষয়টি অবগত নন বলেও জানান এই চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, কৃষকের জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষকরা মামলা করলে উপজেলা প্রশাসন থেকে সবধরণের সহযোগিতা করা হবে।
