নেত্রকোণা বিস্তীর্ণ হাওরে মিষ্টি কুমড়ার ফলনে খুশি কৃষক
নেত্রকোণার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার হাওরের বিভিন্ন অংশে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমি। সেই ভূমিতেই মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
হাওরের নিচু জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। মিষ্টি কুমড়া চাষে উদ্বুদ্ধকরণ ছাড়াও সার, বীজ ও পরামর্শসহ নানাভাবে কৃষকদের সহযোগিতাদান করেছে কৃষি অধিদপ্তর। এতে বেশ সাফল্যও পাওয়া গেছে।
খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষক ওমর ফারুক জানান, “কৃষি বিভাগের স্যারদের কথায় আমি ১০ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। জমি থেকে ১৫-২০ দিন পর পর মিষ্টি কুমড়া উঠানো যায়। বাজারজাত করারও ঝামেলা নেই। পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ক্ষেতে এসে কিনে নিয়ে যায়। দামও ভাল। আশা করছি, আমার জমিতে একরে ৩ হাজার হিসেবে মোট ৩০ হাজার মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হবে। প্রতিটি কুমড়া ২ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। আমার জমি থেকে গড়ে ৯০ হাজার কেজি মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যাবে। ২০ টাকা কেজি দরে হলেও এই মিষ্টি কুমড়ার মূল্য ১৮ লাখ টাকা। কুমড়া চাষ করে আমি যথেষ্ট লাভবান। আমার দেখাদেখি অনেকেই আগামী বছর তাদের জমিতে কুমড়া চাষ করবে বলে জানিয়েছেন”।
খালিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবু ইসহাক বলেন, “চলতি বছর হাওরের বিস্তীর্ণ পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। এতে শুধু কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন এমন নয়, অনেক শ্রমিকেরও কর্মের সংস্থান হয়েছ”।

মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: হাবিবুর রহমান জানান, “চলতি বছর হাওর এলাকার বিস্তীর্ণ পতিত জমিতে লালিমা, ওয়ানাডার বল, ব্ল্যাক সুইটি, সন্ধ্যানী, শিলা, সুইট স্পট প্রভৃতি জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করা হয়েছে। প্রচন্ড শীতের কারণে কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হলেও বলা যায় ফলন ভালো হয়েছে। বাড়তি আয় হওয়ায় খুশি কৃষকগণ। এসব জমিতে ৩০-৪০ বছর আগে সরিষা, তিল ও মাসকলাই চাষ হতো। অধিক শ্রম ও স্বল্প লাভের কারণে এসবের চাষাবাদ থেকে একসময় সরে দাঁড়ান কৃষকরা। বর্তমানে মিষ্টি কুমড়াসহ নানা সবজি চাষে কৃষকগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে”।
কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান জানান, “মিষ্টি কুমড়া এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। কচি ও পরিপক্ক দুইভাবেই খাওয়া যায় মিষ্টি কুমড়া। তাছাড়া, পরিপক্ক মিষ্টি কুমড়া শুষ্ক পরিবেশে ৫ থেকে ৬ মাস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে এই মিষ্টি কুমড়া”।
নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, “জেলায় এবার ৭১৯ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এক হেক্টর জমিতে ধান উৎপন্ন হয় ৬ টন। সেখানে মিষ্টি কুমড়া হয় ৩০ থেকে ৩৫ টন। হাওরে ধানের ক্ষতির আশংকা থাকে। আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হতে পারে। মিষ্টি কুমড়া পতিত জমিতে চাষ করা যায়, বাড়তি কোন খরচ নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির সম্ভাবনাও খুই কম। এর বাজার দরও বেশ ভালো। জমি থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। হেমন্ত মৌসুমে ধানের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন কৃষকসহ সবাই”।
