রাকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ফাঁসের অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে
আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কাছে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করে বাম ছাত্রসংগঠনগুলো সমর্থিত প্যানেল ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’।
তারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ডেটাবেজ থেকে শিক্ষার্থীদের ফোন নম্বর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ছাত্রদল ও শিবিরের প্যানেল থেকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রচারণামূলক বার্তা পাঠানো হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটির ভিপি পদপ্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “ফোন নম্বরের মতো সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিতভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে তুলে দেওয়া মানে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিসর ও ডিজিটাল নিরাপত্তাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া।”
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই তথ্য এখন শুধু নির্বাচনি প্রার্থীদের হাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তাদের মাধ্যমে তা থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ও অনলাইন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ছে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি ও হয়রানির নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।”
ঘটনাটিকে ‘প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার চরম দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ তিনটি দাবি জানিয়েছে।
দাবিগুলো হলো:
১. তথ্য ফাঁসের দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে।
২. এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার স্পেস সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকরী সাইবার সেল গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী কাউসার আহমেদ, এজিএস প্রার্থী নাসিম সরকার সরকারসহ প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
