ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ 

বৃষ্টি থেকে অভিশ্রুতি : নাম পরিবর্তনের আবেদন আমলে নেয়নি ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৮, ৩ মার্চ ২০২৪

আপডেট: ২৩:১২, ৩ মার্চ ২০২৪

শেয়ার

বৃষ্টি থেকে অভিশ্রুতি : নাম পরিবর্তনের আবেদন আমলে নেয়নি ইসি

নাম পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছিলেন বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য পরিবর্তন করে জমা দেয়া সংশোধনীর এই ফরমটি খারিজ করে দিয়েছিলো ইসি। 

এনআইডি অনুযায়ী, অভিশ্রুতির নাম বৃষ্টি খাতুন। জানা গেছে, নাম পরিবর্তনের আবেদন করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে ধর্ম পরিবর্তন করতে চাননি অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি খাতুন। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য পরিবর্তন ফরম যাচাই করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। 

পরিচয় সংক্রান্ত এই জটিলতার কারণেই বেইলি রোড ট্র্যাজেডিতে নিহত ওই সাংবাদিকের লাশ এখনো তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। লাশটি রাখা আছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। রোববার সকালে তার বাবা সবুজ শেখের ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মা বিউটি বেগমের নমুনা নেওয়ার জন্য তাকেও ঢাকায় ডাকা হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশটি হস্তান্তর করা হবে। 

নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, ওই নারী সাংবাদিকের নাম আগে বৃষ্টি খাতুন ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজ নাম বৃষ্টি খাতুনের পরিবর্তে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী করতে ইসিতে আবেদন করেছিলেন তিনি। আবেদনপত্রে বাবার নাম সবুজ শেখ থেকে সংশোধন করে মো. শাবরুল আলম করতে চেয়েছেন। তবে মায়ের নাম ও ধর্ম পরিবর্তনের কোনো আবেদন করেননি। এনআইডিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করতেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে এসব তথ্য সংশোধনের জন্য তিনি বেশ কিছু কাগজপত্র দাখিল করেছেন। যেখানে রয়েছে ২০২২ সালে নিবন্ধন করা জন্ম সনদ, বাবার এনআইডি, মায়ের এনআইডি ও ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদ। তবে বৃষ্টি খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ওই আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি। 

নিহত ওই সাংবাদিক ঢাকার ইডেন কলেজ পড়তেন। জানতে চাইলে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, নিহত সাংবাদিকের নাম বৃষ্টি খাতুন। তার বাবার নাম সবুজ শেখ, মায়ের নাম বিউটি বেগম। কুষ্টিয়ার খোকসার বনগ্রামে তার বাড়ি। তিনি জানান, ২০১৭-১৮ সেশনে বৃষ্টি ইডেন কলেজের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর বৃষ্টি তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণ করেন। কিন্তু আর পরীক্ষা দেননি। ইডেনের রাজিয়া বেগম হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন তিনি। দুই বছর পর হলও ছেড়ে দেন বৃষ্টি।

এদিকে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। আহতদের চিকিৎসায় ১৭ সদস্যের যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, ডা. শারফুদ্দিন তার একজন সদস্য। 

অভিশ্রুতি অথবা বৃষ্টি অনলাইন পোর্টাল দ্য রিপোর্ট ডট লাইভে ছয় মাস কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বন্ধুদের সঙ্গে বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৬ জনের সঙ্গে মৃত্যু ঘটে তার। কিন্তু নাম ও পরিচয় নিয়ে জটিলতা দেখা গেলে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বর্তমানে তার লাশ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা আছে। 

দ্য নিউজ/এসএন /এনজি

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: