ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ 

অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি

পরিচয় জটিলতায় মর্গে পড়ে আছে দু’টি লাশ

ইমরান খান

প্রকাশিত: ২২:৪২, ২ মার্চ ২০২৪

আপডেট: ১৩:২০, ৪ মার্চ ২০২৪

শেয়ার

পরিচয় জটিলতায় মর্গে পড়ে আছে দু’টি লাশ

অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি আজও। বেইলিরোড ট্রাজেডিতে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে  ৪৪ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় নিহত ওই তরুণী ও এক যুবকের লাশ পড়ে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। লাশ দু’টির গন্তব্য কোথায়, তা নিশিচ্ত হতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেক সময়। এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ শনিবার চার জনের এবং তার আগে ৪০ জনের লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেখা গেছে, সকাল থেকেই মর্গের সামনে লাশ গ্রহণ করতে অপেক্ষা করছিলেন নিহতদের স্বজনরা। এই অপেক্ষা ছিল রাত পর্যন্ত। সবার অপেক্ষা শেষ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি দু’টি লাশের গন্তব্যের।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গের সামনে কথা হয় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসানের বাবা নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন থেকে আমার ছেলের লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছি। প্রথমে এক লাশ দেখে মনে হয়েছিল যে এটা আমার ছেলের লাশ। কিন্তু ডিএনএ টেস্টের ফলাফল আসার পর জানলাম তা আমার ছেলের লাশ না।

এখন মর্গে যে লাশটি আছে সেটি আমার ছেলের কি-না, সেটাও বুঝা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপ্ক্ষ ওই লাশটির ডিএনএ’র জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে। রিপোর্ট এলে জানতে পারবো, সেটি আমার ছেলের লাশ কি-না। এসময় ছেলের লাশ শনাক্তে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান নাজমুলের বাবা।

এদিকে গণমাধ্যমকর্মী অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর লাশের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। শনিবার সকালে আঙুলের ছাপ নেয়ার পর জানানো হয়েছিল লাশটি বৃষ্টি খাতুনের। এরপর আবারও লাশের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত নাম-পরিচয়ের জটিলতা মেটাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে লাশটি ঢামেক’র ফরেনসিক বিভাগে নেয়া হয়েছে। বেলা আড়াই টায় লাশটি ফরেনসিক বিভাগে নেয়া হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৃষ্টি খাতুনের বাবা সবুজ শেখ।

এ সময় তিনি বলেন, আমার মেয়ের আসল নাম মোছা. বৃষ্টি খাতুন। সে লেখালেখিতে অভিশ্রুতি নাম ব্যবহার করতো। কিন্তু সে আমারই মেয়ে।

বৃষ্টি খাতুনের ভাই নাইম রহমান জানান, বৃষ্টি ছদ্মনামে ভুয়া ফেসবুক আইডি করেছিলেন। তিনি আসলে বৃষ্টি খাতুন। আঙুলের ছাপে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে আদালত থেকে ডিএনএ টেস্টের অনুমতি এনে এরপর টেস্ট করে পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

অন্যদিকে অভিশ্রুতির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার রমনা কালীমন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা। তিনি বলেছেন, অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করতে রমনা থানার ওসি ও ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর রমনা মন্দির থেকে আবেদন করা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে এক তরুণীর লাশ এখানে ছিল। লাশের ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, সর্বশেষ বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহত মিনহাজের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন মর্গে আরও  একটি লাশ আছে। পরিচয় শনাক্ত হলে সেটিও হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া নাম পরিচয় শনাক্তের জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মর্গ থেকে লাশটি ঢামকের ফরেনসিক বিভাগে আনা হয়েছে। এ নিয়ে পরিচয় জটিলতায় দু’টি লাশ এখনও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ৪৪ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে আজ সকালে আগুনের ঘটনায় নিহত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহজালাল উদ্দিন (৩৪), তার স্ত্রী মেহেরুন নিসা জাহান হেলালি (২৪) এবং তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে ফাইরুজ কাশেম জামিরার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সর্বশেষ ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর শনিবার সন্ধ্যায় একেএম মিনহাজ উদ্দিনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভাইয়ের লাশ বুঝে পাওয়ার পর আমিনুল ইসলাম বলেন, মিনহাজের ছোটবেলায় পেটে একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সামনের কয়েকটি দাঁত উঁচু ছিল। হাতে আমার উপহার দেওয়া একটি ঘড়ি ছিল। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের দাগ, দাঁত ও হাতঘড়ি দেখে ভাইকে শনাক্ত করেছেন।

live pharmacy
umchltd