ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ 

বেইলি রোডের আগুন কেড়ে নিলো দুই সংবাদকর্মীর প্রাণ

অর্পিতা জাহান

প্রকাশিত: ১৫:০৬, ১ মার্চ ২০২৪

আপডেট: ১৬:২৩, ১ মার্চ ২০২৪

শেয়ার

বেইলি রোডের আগুন কেড়ে নিলো দুই সংবাদকর্মীর প্রাণ

চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম মাসের বেতন পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রিট দিতে। ট্রিট দিয়ে আর ফেরা হলো না ঘরে। 

রাজধানী বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ ভবনের আগুন কেড়ে নিলো ট্রিট দিতে যাওয়া তুষার হাওলাদারের প্রাণ। শুধু তুষার নন; আগুনে মৃত্যু হয় অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর।

অভিশ্রুতি শাস্ত্রী শান্তিনগর এলাকায় একটি মেসে থাকতেন।  তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি রাজধানীর ইডেন কলেজ থেকে অনার্স করেছেন।

তুষার এবং অভিশ্রুতি শাস্ত্রী দুই জনেই দ্য রিপোর্ট লাইভে কর্মরত ছিলেন। জানুয়ারিতে তারা চাকুরি ছাড়েন। এরপর তুষার নতুন একটি চাকরিতে যোগদান করেন।

দ্য রিপোর্টের প্রধান প্রতিবেদক গোলাম রাব্বানী বলেন, বেইলি রোডের ট্র্যাজিডিতে আমরা দুই জন সাবেক সহকর্মী হারিয়েছি। তারা দ্য রিপোর্ট লাইভে ছিলেন। অভিশ্রুতি শাস্ত্রী আমাদের রিপোর্টার ছিলেন। তুষার হাওলাদার ছিলেন ভিডিও জার্নালিস্ট । তিনি আমাদের এখানে ইন্টার্ন শেষ করেছেন। 

জানা গেছে- তুষার ইন্টার্ন শেষ করে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে জয়েন করেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম মাসের বেতন পেয়ে তিনি দুই বন্ধুকে ট্রিট দিতে কাচ্চি ভাই রেস্ট্রুরেন্টে যান। তুষার এবং অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর বিষয়ে জানা গেলে সঙ্গে থাকা অন্য জনের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

গোলাম রাব্বানী বলেন, তুষারের বিষয়টা আমরা রাতে জানতে পেরেছি। রাতেই তুষারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয় । তখন আমরা জানতে পারি তুষারের সঙ্গে একজন নারী সহকর্মী ছিলেন। পরে আমরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। জানতে পারি অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। খুঁজতে খুঁজতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর মরদেহ খুঁজে পাই।

এদিকে এই দুই সংবাদ কর্মীর মৃত্যুতে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। আতিকা রহমান লিখেছেন-বেইলিরোডের আগুনে ইলেকশন কমিশন বিটের রিপোর্টার অভিশ্রুতি শাস্ত্রী মারা গেছে। অভিশ্রুতির মৃত্যুর খবরটা মানতে এত কস্ট হচ্ছে! দ্যা রিপোর্ট এর রিপোর্টার ছিলো। মেয়েটা এত হাস্যজ্বল ছিলো! এত ছোট জীবন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলে তুমি?

রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কজি কটেজ ভবনে আগুনে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এদের মধ্যে ২১ জনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯ টা ৪০ মিনিটে ওই ভবনে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১২ টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাত ৯ টা ৫১ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে ৮টি ইউনিট। পরে আরও ৪ টি ইউনিট যুক্ত হয়। 

সাততলার ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের রেস্ট্রুরেন্ট রয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া বাকি সব তলাতেই খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান।

তিনতলায় কাপড়ের দোকান ছাড়া বাকি সব ফ্লোরে রেস্টুরেন্ট থাকায় সব ফ্লোরেই ছিলো গ্যাস সিলিন্ডার। ধারণা করা হচ্ছে সে কারণেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বেইলি রোডের ওই ভবনে আগুনের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

দ্য নিউজ/অজা/আসা

live pharmacy
umchltd