ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ 

এক জেলায়ই অনুমোদনহীন ২০৫ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান!

আরিফ সাওন

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১৫:৫৮, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শেয়ার

এক জেলায়ই অনুমোদনহীন ২০৫ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান!

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠছে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন চলছে এসব অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তা-ও দুই চারটি নয়; কোনো কোনো জেলায় রয়েছে দুই শতাধিক, আবার কোনো জেলায় শতাধিক, কোনো কোনো জেলায় অর্ধশতাধিক। এসব অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে সামান্য সেবা নিতে গিয়েও ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঙ্খিত স্থানে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়া, সরকারি হাসপাতালে জনবলের ঘাটতি ও সেবার অপ্রতুলতা, রেফারেল সিস্টেম না থাকা এবং করপোরেট হাসপাতালগুলোর সর্বগ্রাসী আচরণ অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক স্থাপনে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি সারাদেশের ১ হাজার ২৭ টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা উচ্চ আদালতে দাখিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই তালিকায় দেখা গেছে- অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বেশি ময়মনসিংহ বিভাগে। সবচেয়ে কম সিলেটে। জেলার মধ্যে বেশি ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরে। শুধু ময়মনসিংহ জেলায়ই রয়েছে ২০৫ টি অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান! 

ময়মনসিংহের পর বেশি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কুমিল্লায়; ১০৮টি! তারপর যথাক্রমে টাঙ্গাইলে ৬৯টি, সাতক্ষীরায় ৬৬টি, দিনাজপুরে ৫৪টি ও ঢাকায় ৫১টি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী এই ৬ জেলায়ই অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ৫৫৩টি। 

তালিকায় সারাদেশের ১ হাজার ২৭ টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪৯ টি, ঢাকায় ২০৭ টি, চট্টগ্রামে ১৯৫ টি, রংপুর ১২৮ টি, খুলনায় ১১৭ টি, বরিশালে ৫৭ টি, রাজশাহী ৫৬ ও সিলেট বিভাগের ১৮ টি। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, তৃতীয় চট্টগ্রাম, চতুর্থ রংপুর। এরপর যথাক্রমে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী বিভাগ।  

ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪৯ টির মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ জেলায়ই রয়েছে ২০৫টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলায়, সেখানে এ রকম ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মোট ৭০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরপর ভালুকায় ৩১টি, নান্দাইল ১৯টি, গফরগাঁও ১৪টি, হালুয়াঘাট ১৪, ত্রিশাল ১১, ফুলবাড়ীয়া ১১, তারাকান্দা ১০ টি, ফুলপুর আটটি, গৌরীপুর পাঁচটি, মুক্তাগাছায় পাঁচটি, ঈশ্বরগঞ্জ চারটি ও ধোবাউড়া চারটি।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এই জেলায় ছয় থেকে সাতশ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ২০৫টি। সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৯৫ টির মধ্যে শুধু কুমিল্লা জেলায় ১০৮ টি, ঢাকা বিভাগের ২০৭ টির মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় ৬৯ টি এবং ঢাকা জেলায় ৫১ টি, খুলনার ১১৭ টির মধ্যে শুধু সাতক্ষীরায় জেলায় ৬৬ টি, রংপুরের ১২৮ টির মধ্যে শুধু দিনাজপুর জেলায় ৫৪ টি অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া

টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছি। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি, আর কিছু প্রতিষ্ঠানের জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিদিনের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় কতগুলো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হলো, কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা প্রতিদিনই জানাতে বলা হয়েছে। যতদিন সেবার মানের উন্নতি না হবে, ততদিনই আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

অনেকেরই অভিযোগ, যখনই কোনো ঘটনা ঘটে তখনই নড়েচড়ে বসে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। তারপর কিছুদিন গেলে আবার ঝিমিয়ে যায় তৎপরতা। থাকে না নূন্যতম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও।

সুন্নতে খৎনা করতে এসে পরপর দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনার জন্য আয়ানকে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। খৎনার ১১ ঘন্টায়ও জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে সাতদিন আইসিইউতে রাখার পর আয়ানকে মৃত ষোষণা করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। 

আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৫ জানুয়ারি রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে আয়ানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে এবং সারা দেশের অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকা এক মাসের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশের ১ হাজার ২৭টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা আদালতে দাখিল করে।

আয়ানের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মালিবাগে সুন্নতে খৎনা করতে গিয়ে মৃত্যু হয় আরেক শিশুর। আহনাফ তাহমিন আয়হাম (১০) নামের ওই শিশু মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ।

এ ঘটনার পরদিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মালিবাগের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ‘জে এস ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টার ও হাসপাতাল’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অনুমতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ঘটনার পরপরই রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় আহনাফের বাবার দায়ের করা মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আহনাফের মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন আগে থেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শুরু করেন। কক্সবাজারের এক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তিনি ডাক্তার-নার্স না পেয়ে ম্যানেজারের রুমে গিয়ে তাকে সিগারেট টানতে দেখেন। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে গিয়ে অসংগতি পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেগুলো বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের অনেকটা দুরাবস্থা দেখে এবং দু’টি শিশুর অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনায় তিনি খুবই দুঃখ প্রকাশ করেন। 

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালাতে ১০ নির্দেশনা
আহনাফের মৃত্যুর একদিন পর ২২ ফেব্রুয়ারি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য দেওয়া হয় ১০টি নির্দেশনা। নির্দেশনাগুলো হলো- বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক এর লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশ পথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে। সকল বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িতপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া কোনেভাবেই নির্দিষ্ট সেবা কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো সেবা দিতে পারবে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টার/প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্স রয়েছে, কেবল সেই ক্যাটাররিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া, কোনোভাবেই অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটারগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সকল শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সকল চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। হাসপাতাল/ক্লিনিক এর ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্টার্ড একজন চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া কোনো অবস্থাতেই চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ (অ্যানেস্থেসিয়ালজিস্ট) ছাড়া কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/প্রসিডিউর করা যাবে না। সকল বেসরকারি নিবন্ধিত/লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ ক্লিনিকে অবশ্যই ‘লেবার রুম প্রটোকল’ মেনে চলতে হবে। নিবন্ধিত/লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই ‘অস্ত্রোপচার কক্ষের আচরণবিধি’ মেনে চলতে হবে।

অধিদপ্তরের অভিযান
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালাতে সেই ১০ নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিযানে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম দিনে রাজাধানীতে দু’টি টিম পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। দ্বিতীয় দিনে দেশের ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা জরিমান করা হয়। একটি সাময়িক বন্ধ ও ছয়টি সিলগালা করা হয়। 

কাঙ্খিত স্থানে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিতের তাগিদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন পরিচালক (প্রশাসন) ও জাহাঙ্গীরনগর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রুহুল ফুরকান সিদ্দিক বলেন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র গড়ে ওঠে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ ছাড়া কাঙ্খিত স্থানে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়া, সরকারি হাসপাতালে জনবলের ঘাটতি ও সেবার অপ্রতুলতা, রেফারেল সিস্টেমের অনুপস্থিতি, সর্বোপরি করপোরেট হাসপাতালগুলোর সর্বগ্রাসী আচরণ অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক স্থাপনে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া অসংক্রামক রোগের পরিবিধি বাড়াও একটি কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হেলথ সিস্টেমকে অ্যাড্রেস করতে হবে। 

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লোকবল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সারা দেশের হাজার হাজার বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লোকবল মাত্র ৮ থেকে ১০ জন। এ ছাড়া, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের নেই নির্বাহী ক্ষমতা। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। 

পরিস্থিতি উত্তরণে অধ্যাপক ডা. রুহুল ফুরকান সিদ্দিক বলেন, হেলথ সিস্টেম ডেভেলপ করলে রোগ ব্যাধি কমে আসবে। তাতে গজিয়ে ওঠা হাসপাতালগুলো এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের দেশে মেডিকেল অডিট হয় না। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য এসওপি তৈরি ও মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে, লিগ্যাল ইস্যুস অ্যাড্রেস করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

এসব অবৈধ ক্লিনিক বন্ধের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে কঠোর অবস্থান নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও মনে করেন অধ্যাপক ফুরকান। তিনি বলেন, সরকার কঠোর মনোভাব নিয়ে এসব বন্ধ করে দিলে অনেক রোগী ন্যূনতম চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। সে ক্ষেত্রে হাতুড়ে চিকিৎসক ও গ্রাম্য চিকিৎসকদের দৌরত্ম্য বাড়বে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু ইস্যু নিয়ে কথা হচ্ছে। ঘটনাগুলো যেকোনো মানুষের মনকেই নাড়া দেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আমাকে শক্তহাতে উদ্যোগ নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স মেইনটেইন করতে বলেছেন। আমি দ্ব্যার্থহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলবো।’ 

দ্য নিউজ/ এএস

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: