ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ 

স্যোশাল মিডিয়ায় ভক্তদের শ্রদ্ধা

পপগুরু আজম খানের জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক 

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শেয়ার

পপগুরু আজম খানের জন্মদিন আজ

‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’ কিংবা পাপড়ি... এই গানগুলো শুনলে এখনও কানে বাজে আজম খানের সেই বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। মৃত্যুর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ভক্ত হৃদয়ে পপগুরু এখনও সজীব, জাগরুক। 

বাংলাদেশের পপগুরু আজম খানের জন্মদিন আজ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রয়াত এই সংগীতশিল্পী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। বেঁচে থাকলে ৭ বছরে পা দিতেন তিনি। 

আজম খানের প্রকৃত নাম ছিল মাহবুবুল হক খান। ‘গুরু’ নয়, ‘আজম ভাই’ সম্বোধনটি পছন্দ করতেন বেশি। কিন্তু সবার ভালোবাসা তাকে ‘গুরু’ করে তুলেছিল। সেই গুরুর জন্মদিন কাটছে নিরবে-নিভৃতে। তবে তার অগণিত গুণগ্রাহী ও ভক্তরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সহকারে স্মরণ করছেন প্রিয় শিল্পীকে। সামাজিক মাধ্যমেও নিজেদের মতো করে অনেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পপগুরুকে।  

রাজধানী ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনিতে আজম খানের জন্ম। শৈশবের পাঁচ বছর ওখানেই কাটে। পাঁচ বছর বয়সে ভর্তি হন ঢাকেশ্বরী স্কুলে। এরপর কমলাপুরে নিজেদের বাড়িতে চলে যান সপরিবারে।  

১৯৭০ সালে টিঅ্যান্ডটি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন তিনি।  

প্রগতিশীল চেতনার ধারক আজম খান ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের সময়েই সোচ্চার হয়ে ওঠেন। সে সময়ের ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচারে অংশ নেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালে পাক হানাদারের বিরুদ্ধে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন আজম খান। কুমিল্লা ও ঢাকার আশেপাশে সেকশন কমান্ডার হিসেবে অনেকগুলো গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন তিনি।

দেশ স্বাধীন হলে ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলেন আজম খান। দেশের সংগীত জগতে তখন দারুণ আলোড়ন তোলে ব্যান্ড দলটি। ১৯৭২ সালে তার ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ আর ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি বিটিভিতে প্রচার হয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিটিভিতে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ গান গেয়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলেন আজম খান।

আজম খানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অ্যাকসিডেন্ট’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘পাপড়ি’, ‘বাধা দিও না’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’, ‘অনামিকা’, ‘আমি যারে চাইরে’ ইত্যাদি।

দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে ভুগে ২০১১ সালের ৫ জুন ঢাকাস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আজম খান। শিল্পকলায় (সংগীত) অবদানের জন্য ২০১৯ সালের মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয় তাকে। 

নশ্বর পৃথিবী থেকে দেহটাই ত্যাগ হয়েছে, কিন্তু আজম খান এখনও সঙ্গীতাকাশের জ্বলজ্বলে এক তারা। শুভ জন্মদিন পপ গুরু...

দ্য নিউজ/ এনজি

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: