ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ 

পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত

কোটি টাকার বিটকয়েন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৯, ৫ মার্চ ২০২৪

আপডেট: ১০:৩০, ৫ মার্চ ২০২৪

শেয়ার

কোটি টাকার বিটকয়েন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ফ্রিল্যান্সার আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে বিটকয়েনের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, “গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটকের পর প্রথমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দশ লাখ টাকা তারা আদায় করে। পরবর্তীতে অনলাইন ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।”

তিনি বলেন, “পুলিশ আমার কাছ থেকে এতগুলো টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার আমাকেই মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

তবে পুলিশের দাবি, বিটকয়েনের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি এখনো তাদের কাছে স্পষ্ট না। এই প্রক্রিয়ায় টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব কি না পুলিশের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারো কাছে পাসওয়ার্ড বা মোবাইলের এক্সেস থাকলে সহজেই টাকা আত্মসাৎ করা সম্ভব।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী গুলবাগ আবাসিক এলাকার একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। তখন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল এসে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর আবুবকরকে নিয়ে যাওয়া হয়, মনসুরাবাদ গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে। সেখানে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন ও পুলিশের অন্য সদস্যরা মানি লন্ডারিং ও সাইবার ক্রাইমের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করে। 

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমি তখন তাকে বললাম আমি তো ফ্রিল্যান্সিং করি ১৪ বছর ধরে। কেন আমাকে মামলা দিবেন? উনি আমার কথা শুনলো না। আমার মোবাইল নিয়ে নেয়। আমার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয় মোবাইল থেকে।”

তিনি জানান, ওই পুলিশ সদস্যরা ভয় দেখানোর পর তিনি তখন দশ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের দেয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঁচ লাখ করে দশ লাখ টাকা অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রান্সফার করেন।

এসময় আবুবকর বলেন, “ওনাদের টাকা দেয়ার পর আমাকে নন এফআইআর মামলা দিয়ে চিটাগাং কোর্টে চালান করা হয়। সেখানে ১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে জামিন পাই আমি।”

তিনি জানান, কোর্টের মাধ্যমে বাড়িতে ফিরলেও পুলিশ তার মোবাইল ফোনটি রেখে দেয়। পরদিন নতুন একটি মোবাইল কিনে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন। সেখানে তিনি তার অ্যাকাউন্টে ঢুকে দেখেন তার মোবাইল থেকে দুই লাখ ৭২ হাজার ডলার ট্রান্সফার করা হয়েছে। এই টাকার পরিমাণ বাংলাদেশের টাকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এরপরই তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা সাদিরা খাতুন বলেন, “গণমাধ্যমে তার এই অভিযোগ দেখার পর আমরা একটু অবাক হলাম। পরে  অনুসন্ধান করে দেখলাম, অনলাইন জুয়া খেলার একটা গ্রুপ এই বিটকয়েনটা তার ওয়ালেট থেকে আরেকজনের ওয়ালেটে নিয়ে যায়।” 

দ্য নিউজ/ এনজি

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: