ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ 

নাব্যতা সংকটে মরে যাচ্ছে মেহেরপুরের নদীগুলো

মেহেরপুর সংবাদদাতা:

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ৩ মার্চ ২০২৪

শেয়ার

নাব্যতা সংকটে মরে যাচ্ছে মেহেরপুরের নদীগুলো

মেহেরপুর জেলার ৩টি নদী নাব্যতা সংকটে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। সুযোগে নদী দখল করে চাষাবাদ করছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। ফলে নাব্যতা সংকট আরও বেড়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, আকার-আকৃতি পরিবর্তনের কারণে নদীগুলো বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার প্রধান নদী ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কাজলা ছেউটিয়া। গত কয়েক বছর আগে ভৈরব নদীর ২৯ কিলোমিটার পূন:খননের ফলে নদীর কিছুটা প্রাণ ফিরেছে। বাকি তিনটি নদী দীর্ঘদিন ধরে পুন:খনন হয়নি।

 

এক সময় বর্ষার প্রথম থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে নদী-নালা খাল-বিল তখন পানিতে টইটুম্বুর ছিলেো। ফলে স্থানীয় হাট-বাজারে স্বল্প পরিমাণে হলেও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা মিলেছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আবার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীগুলো দখল করে ধান আবাদ করছে এলাকবাসী। ফলে দেশীয় মাছ জলজপ্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে।

 

জানা গেছে, ভৈরব নদী মেহেরপুর  সদর মুজিবনগর উপজেলায় এবং মাথাভাঙ্গা, কাজলা ছেউটিয়া নদী গাংনী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভৈরব নদী মাথাভাঙ্গা নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে। গাংনী উপজেলার কাজীপুর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের মাঝ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মাথাভাঙ্গা নদী। গাংনী দৌলতপুর উপজেলার সীমারেখার মাঝ দিয়ে হাটবোলিয়া এলাকা হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রবেশ করে ভৈরব নদীর সঙ্গে মিশেছে। এই নদী গাংনী, দৌলতপুর কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষকের এক সময়ের চাষের প্রধান পানির উৎস প্রচুর মাছ ছিল। তবে এখন শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে আর পানি আসে না। ফলে নদী শুকিয়ে যায়। কোথাও কোথাও অল্প পানি থাকলেও সেখানে  বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ফলে নদীর স্রোতে বাধা সৃষ্টি হয়ে নাব্যতা সংকট বাড়ছেই

 

এদিকে, সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের অনেকেই কাজলা নদী দখল করে ধান আবাদ করছে। এ বিষয়ে  আবাদকারীদের জানতে চাওয়া হলে, তারা জানান, নদীর পাড়ে যাদের জায়গা-জমি রয়েছে তারা নিজ নিজ সীমানার নিচে নদীর অংশ দখল করেছে। নিজের জমির মতো করেই ব্যবহার করছে। একজনের দেখাদেখি আরেকজন ব্যবহার করছে। প্রশাসনের কোনো বাধা না থাকায় দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

 

এছাড়া এক সময়ের খরস্রোতা কাজলা নদীও আজ মৃতপ্রায়। গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রাম থেকে সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রাম পর্যন্ত নদীতে এখন শুধুই ধান চাষ হচ্ছে। নদীর দুপাড় কেটে তলানিতে ফেলে সমতল করা হয়েছে। বোরো ধানের চারা উৎপাদনের জন্য মূলত নদী কাটা হয়। চারা তোলার পর ওই স্থানগুলোতে ধান চাষ করা হয়েছে।

 

অপরদিকে, ছেউটিয়া নদীরও একই চিত্র। গাংনী উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রাম থেকে শুরু করে সদর উপজেলার কচুইখালী গ্রাম পর্যন্ত শুধুই ধান চাষ হচ্ছে। মাটি কেটে নদী সমতল সৃষ্টি করায় বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক গতিবিধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে নদীর উজানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নদীতে অনেকেই ধান চাষ করছে।

 

মেহেরপুর সদর উপজেলার এআরবি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক হিরো মিয়া জানান, জেলার চারটি নদী পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বর্ষা মৌসুমে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাব নদী শাসনের ফলে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পাল্টে যাবে নয়তো মৃতনদীতে পরিণত হবে। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষায় নদীগুলো দখলমুক্ত করে দ্রুত পুন:খননের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জলবায়ু যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে একদিন মানুষের জীবনই বিপন্ন হতে পারে।

 

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শামীম হাসান জানান, ইতোমধ্যে ভৈরব নদীর অনেকাংশই পূন:খনন হয়েছে। যা থেকে এলাকার মানুষ সব প্রজাতির মাছের স্বাদ গ্রহণ সেচ কাজে পানির চাহিদা কিছুটা হলেও মিটাতে পারছে। এছাড়া আরো যেসব নদী রয়েছে সেগুলো পুন:খননের চেষ্টা চলছে। সবক’টি নদী খনন করতে পারলে জেলার মানুষ মাছ সেচ চাহিদা পুরোদমে ভোগ করবে। 

 

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: