ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ 

নরসিংদীতে চলছে ৬শ’ বছরের বাউল মেলা

আল আমিন মুন্সী, নরসিংদী

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ২১:৪১, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শেয়ার

নরসিংদীতে চলছে ৬শ’ বছরের বাউল মেলা

নরসিংদী শহরের মেঘনা নদীর তীরে ভক্ত ও পুণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত ছয়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা। মেলায় ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক শত বাউল সাধক যোগ দিয়েছেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মানব ধর্ম ও সাম্যের জয়ধ্বনি করছেন বাউলরা। দেশ-বিদেশের ভক্তদের উপস্থিতিতে বাউল ঠাকুরের আঁখড়া পরিণত হয় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মাবলম্বীর মিলনমেলায়।

প্রতি বছরই মাঘী পূর্ণিমার দিনে শ্রী চৈতন্য দেবের জন্মতিথি উপলক্ষে মহাযজ্ঞের আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয় মেলার আনুষ্ঠানিকতা। প্রায় ছয়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে ঘিরে নরসিংদীর কাউরিয়াপাড়া এলাকার মেঘনা নদীর তীরে সমাগম ঘটে লক্ষাধিক নারী-পুরুষের। নদীতে চলে পূন্যস্নান। পাশেই রয়েছে বাউল ঠাকুরের আঁখড়া। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল শিল্পীরা এসে বসিয়েছে বাউল গানের আসর।

মেলাকে ঘিরে মেঘনা নদীর পার ঘেঁষে জমে উঠেছে মেলা। কুটির শিল্প, মৃৎশিল্প, কাঠ-বাঁশ ও মাটির তৈরি কুটির শিল্প সামগ্রীর হরেক রকম দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। এছাড়াও শিশুদের আকৃষ্ট করতে মেলায় বসেছে পুতুল নাচ, নাগর-দোলাসহ নানা বিনোদনমূলক রাইড। 

এ আখড়ায় বাউল ঠাকুরের অন্তর্ধান হয়েছিল। বাউল আখড়ায় জগন্নাথ দেবতার মন্দির রয়েছে। মন্দিরে মহাবিষ্ণুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা, জগন্নাথ দেবতার প্রতিমা, মা গঙ্গার (৩৩ কোটি দেবতার) গট, নাগ দেবতার বিগ্রহ ও শিবলিঙ্গ রয়েছে, যা বাউল ঠাকুর নিজে প্রতিস্থাপন করে গেছেন বলে কথিত রয়েছে। পাশে রয়েছে বাউল ঠাকুর ও মাতাজির সমাধি মন্দির। সবার মধ্যখানে রয়েছে উপাসনার জন্য বিশাল আটচালা বৈঠক ঘর। 

শনিবার দেবতা ব্রহ্মার পূজা মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। মহাযজ্ঞে জগতের কল্যাণের জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের পূজা করা হয়। ঠাকুরের কাছে দেশ ও মানুষের কল্যাণে প্রার্থনা করা হয়।

গত শনিবার মহাযজ্ঞের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ বাউল মেলা।

দ্য নিউজ/ এনজি

live pharmacy
umchltd

সম্পর্কিত বিষয়: